ফায়ার সেফটির দুনিয়ায় সবচেয়ে প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—”বিল্ডিংটি কী কাজে ব্যবহার করা হবে?” একটি হাসপাতালের ফায়ার সেফটি আর একটি গোডাউনের ফায়ার সেফটি এক হতে পারে না। এই ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে বিএনবিসি কোড সব বিল্ডিংকে ১৩টি গ্রুপে ভাগ করেছে। একেই বলা হয় Occupancy Classification।
মূল বিধান (The Core Provision): সেকশন ২.১ অনুযায়ী, সমস্ত ভবনকে তাদের ব্যবহার (Use) বা দখলের চরিত্র (Character of occupancy) বিবেচনা করে শ্রেণিবদ্ধ করতে হবে। বিএনবিসি কোড অনুযায়ী অকুপেন্সি গ্রুপগুলো হলো:
- Occupancy A: Residential (আবাসিক – যেমন বাসা-বাড়ি)।
- Occupancy B: Educational (শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান – যেমন স্কুল, কলেজ)।
- Occupancy C: Institution for care (যত্ন কেন্দ্র – যেমন এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম)।
- Occupancy D: Health Care (স্বাস্থ্যসেবা – যেমন হাসপাতাল, ক্লিনিক)।
- Occupancy E: Business (ব্যবসায়িক – যেমন অফিস, ব্যাংক)।
- Occupancy F: Mercantile (বাণিজ্যিক – যেমন দোকান, শপিং মল)।
- Occupancy G: Industrial (শিল্প – যেমন ফ্যাক্টরি)।
- Occupancy H: Storage (গুদামঘর – যেমন ওয়ারহাউজ)।
- Occupancy I: Assembly (জনসমাগম – যেমন মসজিদ, অডিটোরিয়াম)।
- Occupancy J: Hazardous (বিপজ্জনক – যেমন কেমিক্যাল প্ল্যান্ট)।
- Occupancy K: Garages (গ্যারেজ – যেমন পার্কিং বিল্ডিং)।
- Occupancy L: Utilities (ইউটিলিটি – যেমন সাবস্টেশন, পাম্প হাউজ)।
- Occupancy M: Miscellaneous (বিবিধ – যেমন অস্থায়ী শেড)।
নোট: এই গ্রুপগুলোর বিস্তারিত সংজ্ঞা এবং সাব-ক্লাসিফিকেশন (যেমন A1, A2 ইত্যাদি) কোডের Part 3-এ পাওয়া যাবে।
A. Professional Case Study (বাস্তব উদাহরণ)
প্রজেক্ট (Project): মনে করি, MediCare Diagnostic Center, ধানমন্ডি।
প্রেক্ষাপট (Context): একটি ৬ তলা ভবনে ডায়াগনস্টিক সেন্টার করা হবে। মালিক বললেন, “এটি তো ব্যবসার জায়গা, তাই এটি ‘Business (E)’ অকুপেন্সি হবে।”
সমস্যা (Problem): ফায়ার কনসালট্যান্ট দ্বিমত পোষণ করলেন। তিনি বললেন, “এখানে রোগীরা আসে, এমআরআই বা সিটি স্ক্যানের জন্য অজ্ঞান করা হতে পারে। তাই এটি সাধারণ অফিস নয়।”
কোড বিশ্লেষণ (Analysis): আমরা সেকশন ২.১ এর লিস্ট চেক করলাম। এখানে “Health Care” বা স্বাস্থ্যসেবার জন্য আলাদা গ্রুপ Occupancy D রয়েছে। আবার যদি শুধু কনসালটেশন বা ডাক্তারের চেম্বার হয় যেখানে রোগী ভর্তি থাকে না, তবে সেটি Occupancy E (Business) হতে পারে। কিন্তু যেখানে ইনপেশেন্ট বা বড় ট্রিটমেন্ট হয়, সেটি D।
সমাধান (Solution): ভবনটির নেচার অব অকুপেন্সি বিশ্লেষণ করে দেখা গেল এখানে কোনো বেড বা ওটি নেই, শুধু টেস্ট হয়। তাই শেষমেশ এটিকে Occupancy E (Business) হিসেবে ক্লাসিফাই করা হলো, তবে ফায়ার সেফটি মেজার্স কিছুটা বাড়িয়ে ধরা হলো।
ফলাফল (Result): সঠিক ক্লাসিফিকেশনের কারণে স্প্রিংকলার এবং এক্সিট রিকোয়ারমেন্ট সঠিকভাবে ডিজাইন করা গেল।
B. Practical Tips (ফিল্ড টিপস)
- মিক্সড অকুপেন্সি (Challenge): ঢাকা শহরে এক বিল্ডিংয়েই নিচে দোকান (F), মাঝখানে অফিস (E) আর উপরে বাসা (A) থাকে। একে বলে “Mixed Occupancy”। এসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অকুপেন্সির নিয়ম (সাধারণত F বা E) পুরো বিল্ডিংয়ের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে, অথবা ফায়ার ওয়াল দিয়ে আলাদা করতে হয়।
- G বনাম J (Distinction): ইন্ডাস্ট্রিয়াল (G) এবং হ্যাজার্ডাস (J)-এর মধ্যে পার্থক্য বুঝুন। সাধারণ গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি হলো ‘G’। কিন্তু যেখানে দাহ্য কেমিক্যাল বা বিস্ফোরক রাখা হয়, সেটি ‘J’। ‘J’ ক্লাসের নিয়ম অনেক কড়া।
- Part 3 রেফারেন্স (Documentation): ফায়ার প্ল্যানের কভার পেজে অবশ্যই বিল্ডিংয়ের অকুপেন্সি ক্লাস (যেমন: Occupancy A3 বা G2) বড় করে লিখে রাখবেন। এটি দেখেই ইন্সপেক্টর বুঝবেন আপনি কোন নিয়ম ফলো করেছেন।