আগের সেকশনে আমরা জেনেছি বিল্ডিং কী কাজে ব্যবহার হবে (Occupancy)। কিন্তু বিল্ডিংটি কী দিয়ে তৈরি—সেটা জানাও সমান জরুরি। একটি বাঁশের তৈরি ঘর আর একটি রিইনফোর্সড কনক্রিটের বিল্ডিং কি আগুনে একই আচরণ করবে? অবশ্যই না। তাই বিএনবিসি কোড ২.২ সেকশনে ভবনের নির্মাণ সামগ্রী এবং তাদের অগ্নি প্রতিরোধের ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে সমস্ত ভবনকে প্রধান দুটি গ্রুপে এবং ১০টি টাইপে ভাগ করেছে।

মূল বিধান (The Core Provision): এই কোডের উদ্দেশ্যে, প্রতিটি রুম, স্পেস বা পুরো ভবনকে তার নির্মাণ কৌশলের ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট টাইপে ক্লাসিফাই করতে হবে। প্রধান দুটি গ্রুপ:

১. GROUP I: Non-combustible (অদাহ্য): যেই ভবনগুলোর মূল কাঠামো (কলাম, বিম, ছাদ) এমন উপাদান দিয়ে তৈরি যা আগুনে জ্বলে না (যেমন: কংক্রিট, স্টিল, ইট)। এদেরকে ফায়ার রেজিস্ট্যান্সের স্থায়িত্ব অনুযায়ী ৫টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:

  • Type-I A: ৪ ঘণ্টা সুরক্ষিত (4 hour protected) – সবচেয়ে নিরাপদ।
  • Type-I B: ৩ ঘণ্টা সুরক্ষিত (3 hour protected)।
  • Type-I C: ২ ঘণ্টা সুরক্ষিত (2 hour protected)।
  • Type-I D: ১ ঘণ্টা সুরক্ষিত (1 hour protected)।
  • Type-I E: অসুরক্ষিত (Unprotected) – যেমন খোলা স্টিল স্ট্রাকচার যা আগুনে সহজেই গলে যেতে পারে।

২. GROUP II: Combustible (দাহ্য): যেই ভবনগুলোর কাঠামো দাহ্য পদার্থ (যেমন: কাঠ) দিয়ে তৈরি। এদেরকেও ৫টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:

  • Type-II A: Heavy timber (ভারী কাঠ)।
  • Type-II B: Protected wood joist (সুরক্ষিত কাঠের জোয়িস্ট)।
  • Type-II C: Unprotected wood joist (অসুরক্ষিত কাঠের জোয়িস্ট)।
  • Type-II D: Protected wood frame (সুরক্ষিত কাঠের ফ্রেম)।
  • Type-II E: Unprotected wood frame (অসুরক্ষিত কাঠের ফ্রেম)।

“Protected” মানে হলো স্ট্রাকচারাল মেম্বারের গায়ে ফায়ারপ্রুফিং স্প্রে, প্লাস্টার বা কংক্রিট কভার দেওয়া আছে যা আগুনকে স্টিল বা কাঠের কাছে পৌঁছাতে দেয় না। আর “Unprotected” মানে হলো নগ্ন কাঠামো, যা আগুনের সরাসরি সংস্পর্শে থাকে।

A. Professional Case Study (বাস্তব উদাহরণ)

প্রজেক্ট (Project): মনে করি, Budget Steel Warehouse, গাজীপুর।

প্রেক্ষাপট (Context): ক্লায়েন্ট কম খরচে একটি স্টিল স্ট্রাকচার (PEB) গোডাউন বানাতে চান। তিনি কনসালট্যান্টকে বললেন, “ভাই, স্টিলে কোনো ফায়ার পেইন্ট দেব না, খরচ বাচাবো।”

সমস্যা (Problem): ফায়ার পেইন্ট ছাড়া স্টিল স্ট্রাকচার হলো Type-I E (Unprotected)। এর কোনো ফায়ার রেটিং নেই। অথচ গোডাউনে রাখা হবে দাহ্য কেমিক্যাল। আগুন লাগলে ১০ মিনিটের মধ্যে স্টিল গলে ছাদ ধসে পড়বে।

কোড বিশ্লেষণ (Analysis): আমরা ক্লায়েন্টকে কোড ২.২ দেখালাম। কেমিক্যাল স্টোরেজের জন্য আমাদের অন্তত ২ ঘণ্টার ফায়ার রেটিং দরকার, অর্থাৎ Type-I C (2 hour protected)। আন-প্রোটেক্টেড স্ট্রাকচার এখানে নিষিদ্ধ।

সমাধান (Solution): ক্লায়েন্টকে বাধ্য হয়ে স্টিল কলামের ওপর ইন্টুমেসেন্ট পেইন্ট (Intumescent Paint) বা ফায়ারপ্রুফ কোটিং ব্যবহার করতে হলো যাতে এটি Type-I C ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়।

ফলাফল (Result): ভবনটি ধসে পড়ার ঝুঁকি থেকে মুক্ত হলো এবং ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম কমে গেল।

B. Practical Tips (ফিল্ড টিপস)

  • হেভি টিম্বার (Safety): Type-II A বা হেভি টিম্বার সাধারণ কাঠের চেয়ে অনেক নিরাপদ। মোটা কাঠের গুড়ি আগুনে পুড়লে বাইরে কয়লার স্তর (Char Layer) পড়ে যা ভেতরের কাঠকে রক্ষা করে। তাই কাঠের স্ট্রাকচার হলে হেভি টিম্বার প্রেফার করুন।
  • স্টিল প্রোটেকশন (Check): সাইটে স্টিল বিল্ডিং দেখলে চেক করুন কলামের গায়ে কোনো কোটিং আছে কি না। না থাকলে সেটি Type-I E (Unprotected) এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
  • কনক্রিট কভার (Observation): আরসিসি বিল্ডিং সাধারণত Type-I এর আন্ডারে পড়ে। কলামের ক্লিয়ার কভার যত বেশি হবে, এটি Type-I D থেকে Type-I A এর দিকে যাবে (১ ঘণ্টা থেকে ৪ ঘণ্টা)।